কোয়ান্টাম মেকানিক্স – ৩ – বোরের তত্ব

রাদারফোর্ড মডেলের ত্রুটি দুর করার জন্য প্রথম সফল পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ডেনমার্কের বিজ্ঞানী নিল্‌স বোর। তিনি ১৯১৩ সালে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে কিছু নতুন প্রস্তাবনা করেন যা বোরের মডেল নামে পরিচিত। বোরের মডেল কতগুলি প্রতিপাদ্যের উপর প্রতিষ্ঠিতঃ

১. পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসকে প্রদক্ষিণ করে.

২. ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসকে বেষ্টন করে শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট কক্ষপথেই ঘুরতে পারে। ওই কক্ষপথগুলিতে প্রদক্ষিণ করার সময় ইলেকট্রন কোন রকম শক্তি বিকিরণ করেনা (যদিও ওদের গতির ত্বরণ বিদ্যমান)। নিউক্লিয়াস থেকে ওই কক্ষপথগুলির দূরত্ব ও কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনের শক্তির শুধু নির্দিষ্ট কিছু মান থাকতে পারে (discrete values)। এই রকম কক্ষপথগুলিকে ষ্টেশনারী অরবিট বা স্থানু কক্ষপথ বলা হয়। Continue reading “কোয়ান্টাম মেকানিক্স – ৩ – বোরের তত্ব”

কোয়ান্টাম মেকানিক্স – ২- রাদারফোর্ড মডেলের ত্রুটি (পরিমার্জিত)

এর আগের পোষ্টে আমরা দেখেছি কিভাবে রাদারফোর্ড তার আলফাকণা বিক্ষেপ পরীক্ষার মাধ্যমে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য দিয়েছিলেন যা পরমাণুর প্ল্যানেটারী মডেল নামে পরিচিত হয়। আজ আমরা আলোচনা করব রাদারফোর্ড মডেলের ত্রুটি, বা আরও সঠিক ভাবে বললে, রাদারফোর্ড মডেলের অসম্পূর্ণতা সম্মন্ধে। তবে তার আগে আমরা একটু সংক্ষেপে দেখে নেব ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্বের ওপর। স্কটিশ বিজ্ঞানী জে‌ম্‌স ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল 1865 ক্ষ্রীষ্টাব্দে তড়িৎ (electricity), চুম্বকত্ব (magnetism) ও আলোক সংক্রান্ত তদবধি আবিষ্কৃত সমস্ত তথ্য, সমীকরণ ইত্যাদিকে একত্রিত করে একটি সুসংগত তত্ত্ব (consistent theory) আবিষ্কার করেন যা তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব (electromagnetic theory) নামে পরিচিত। Continue reading “কোয়ান্টাম মেকানিক্স – ২- রাদারফোর্ড মডেলের ত্রুটি (পরিমার্জিত)”

কোয়ান্টাম মেকানিক্স – আণবীক্ষনিক জগতের পদার্থবিদ্যা -১

ক্লাসিক্যাল ও কোয়ান্টামঃ– ধর একটি বস্তুকণাকে নির্দ্দিষ্ট বেগে নির্দ্দিষ্ট স্থান থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। ক্লাসিক্যাল মেকানিক্স অনুসারে নিউটনের গতিসূত্র ব্যবহার করে আমরা কিছু সময় পরে ওই বস্তকণার গতিবেগ ও অবস্থান দুটোই একসাথে নির্ভূলভাবে* (arbitrary precision) নির্ণয় করতে পারি। কিন্তু যদি বস্তকণাটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স মেনে চলে তাহলে ওই বস্তকণার গতিবেগ ও অবস্থান দুটোই একসাথে নির্ভূলভাবে* (arbitrary precision) পরিমাপ করা সম্বভ নয়। অর্থাৎ যদি বস্তটির অবস্থান পরিমাপের নির্ভূলতা* (precision) বাড়িয়ে দেওয়া হয় তবে গতিবেগ পরিমাপের নির্ভূলতা* (precision) কমে যাবে এবং যদি গতিবেগ পরিমাপের নির্ভূলতা বাড়িয়ে দেওয়া হয় তবে তার অবস্থান জানার নির্ভূলতা* কমে যাবে। আরও পরিষ্কার করে বললে, যদি আমরা বস্তটির গতিবেগ কোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ নির্ভূলভাবে মাপতে পারি তাহলে সেই মুহূর্তে বস্তটি কোথায় আছে সেটা জানা সম্বভ নয় এবং তদ্বিপরীতভাবে বস্তুটির অবস্থান সম্পূর্ণ নির্ভূলভাবে জানা থাকলে তার গতিবেগের পরিমাপ সম্বভ নয়।এটাই সেই বিখ্যাত অনিশ্চয়তা নীতি বা আনসার্টেনটি প্রিন্সিপল (uncerta\inty principle)। Continue reading “কোয়ান্টাম মেকানিক্স – আণবীক্ষনিক জগতের পদার্থবিদ্যা -১”