লোরেন্‍ৎস রূপান্তরণ ও বিশেষ আপেক্ষিকতা

লোরেন্‍ৎস ট্রান্সফর্মেশনের ফলে (ম্যাক্সওয়েলর সমীকরণ থেকে প্রাপ্ত) তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের সমীকরণ অপরিবর্তিত থাকে – এর প্রমাণ তোমরা আগের পোস্টে দেখেছো। এটাও দেখেছো যে গ্যালেলিয়ান আপেক্ষিকতা নিউটনের সূত্রগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও তা ম্যাক্সওয়েলর তত্ত্বের ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যার্থ। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আইনস্টাইনের সামনে দুটো রাস্তা ছিল। এক, তিনি ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব ও লোরেন্‍ৎস রূপান্তরণের সমীকরণকে সত্যি বলে ধরে নিয়ে সেই অনুসারে নিউটনের সূত্রের সংশোধন করতে পারতেন, অথবা দুই, নিউটনের সূত্র ও গ্যালেলিয়ান আপেক্ষিকতাকে সত্যি বলে ধরে নিয়ে সেই হিসেবে ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বের পরিবর্তন সাধন করতে পারতেন। তিনি প্রথম রাস্তাটাই বেছে নিয়েছিলেন। এর কারণ ছিল ওই সময়কার কিছু পরীক্ষার ফল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মাইকেলসন-মোর্লের পরীক্ষা, যার ফলাফল ব্যাখ্যা করার একমাত্র উপায় ছিল এটা ধরে নেওয়া যে আলোর বেগ সমস্ত ইনার্শিয়াল ফ্রেমে একই থাকে। Continue reading “লোরেন্‍ৎস রূপান্তরণ ও বিশেষ আপেক্ষিকতা”

আপেক্ষিকতাবাদ – নিউটন থেকে আইনস্টাইন

“রোজ মাছ-ভাত খেতে থাকলে মাঝে একদিন ডাল-ভাতও অমৃত মনে হয়”- কথাটি বলতেন আমাদের স্কুলের বাংলা স্যার। বাক্যটি যে ধ্রুব সত্য তা তোমরা সকলেই জানো। কিন্তু সেটা বিস্মৃত হয়ে এতদিন ধরে আমি শুধু কোয়ান্টাম মেকানিক্সই বকে যাচ্ছিলাম। একটুও খেয়াল ছিলনা যে ব্যাপারটা মারাত্মক শক্তিশালী ঘুমপাড়ানির ওষুধে পরিণত হতে পারে। শেষটায় এক সহৃদয় পাঠকের খোঁচা খেয়ে ঘুম ভাঙল। তাই আজ থেকে আমরা আধুনিক পদার্থবিদ্যার অন্য আরেকটি প্রধান স্তম্ভ, আপেক্ষিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু করব। সঙ্গে অবশ্যই কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আলোচনাও চলতে থাকবে। আজকের এই প্রথম পোস্টে আমরা জানবো আপেক্ষিকতা ব্যাপারটি আসলে কি? নিউটনের সময়কার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে কিভাবে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতাবাদের জন্ম হল সে ইতিহাসও আজকের এই প্রাথমিক আলোচনায় উঠে আসবে। সুতরাং চল আর কালক্ষেপ না করে চটপট তোমাদের নিয়ে যাই স্থান ও কালের দাম্পত্য সম্পর্কের রহস্যময় জটিলতায়। Continue reading “আপেক্ষিকতাবাদ – নিউটন থেকে আইনস্টাইন”